ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুরে প্রায় পাচঁ লক্ষ জাল টাকা সহ গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ২০ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে-মাহাবুবউল আলম হানিফ গাজীপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বর্জ্য অপসারণের কাজ ছেলেকে দেওয়ার অভিযোগ ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গাজীপুরে গাছা থানা কৃষকলীগের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান তীব্র গরমে পথচারীদের জন্য ‘গাছা থানা কৃষকলীগে’র ফ্রি শরবত বিতরণ গাজীপুর বিআরটিএ’র ঘুষ বাণিজ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার খাতা দেখেন দালাল গাজীপুর বোর্ডবাজারে মীনা বাজারের ৩৭তম আউটলেট উদ্বোধন স্মার্টফোনে ই-লাইসেন্স দেখিয়েও গাড়ি চালানো যাবে গাজীপুরে দেড় কেজি হেরোইন জব্দ, ট্রাক চালকসহ গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে ইয়ুথ প্রিমিয়ার লীগের ১১তম টি ২০ ফাইনাল ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুরে প্রায় পাচঁ লক্ষ জাল টাকা সহ গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ২০ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে-মাহাবুবউল আলম হানিফ গাজীপুরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বর্জ্য অপসারণের কাজ ছেলেকে দেওয়ার অভিযোগ ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গাজীপুরে গাছা থানা কৃষকলীগের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান তীব্র গরমে পথচারীদের জন্য ‘গাছা থানা কৃষকলীগে’র ফ্রি শরবত বিতরণ গাজীপুর বিআরটিএ’র ঘুষ বাণিজ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার খাতা দেখেন দালাল গাজীপুর বোর্ডবাজারে মীনা বাজারের ৩৭তম আউটলেট উদ্বোধন স্মার্টফোনে ই-লাইসেন্স দেখিয়েও গাড়ি চালানো যাবে গাজীপুরে দেড় কেজি হেরোইন জব্দ, ট্রাক চালকসহ গ্রেপ্তার ২ গাজীপুরে ইয়ুথ প্রিমিয়ার লীগের ১১তম টি ২০ ফাইনাল ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: ভোট জমিয়ে জায়েদার জয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০২৩ ২৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে শেষ পর্যন্ত জয় পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা। রাত দেড়টায় রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আজমত উল্লা খানের চেয়ে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এই ফলাফল সার্বিকভাবে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে।

ভোট মানেই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, ধাওয়াধাওয়ি, কম ভোটার উপস্থিতি—এই পরিস্থিতির বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। গতকাল সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার আগেই কিছু কেন্দ্রে ছিল ভোটারের দীর্ঘ লাইন। কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণে ধীরগতি এবং কয়েকজন প্রার্থীর এজেন্ট না থাকা ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোট চলাকালে সহিংসতা ঘটেনি।

তবে ভোটের পর একটি ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ভোট চলাকালে প্রার্থীরাও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন বলে জানান।

বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে স্থাপিত কার্যালয়ে রাত দেড়টার দিকে নির্বাচনের ৪৮০ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ফরিদুল ইসলাম। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানের চেয়ে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।

জায়েদা খাতুন পেয়েছেন দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট আর আজমত উল্লা খান পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। ফল ঘোষণার পর নির্বাচিত জায়েদা খাতুনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মাকে সহযোগিতা করবেন। আমার মা এবং সবার সহযোগিতায় একটি নতুন শহর করে দেব এই গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আমার জন্ম হয়েছে।

কোনো সন্ত্রাসী, কোনো অপকর্মের কাছে আমি মাথা নত করিনি, করবও না। সে জন্য আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৫০টির বেশি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদকরা। তাঁরা কোথাও অনিয়ম বা গোলযোগের ঘটনা দেখেননি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রেই ছিল ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। শারীরিক প্রতিবন্ধী, অসুস্থ, অতি বয়স্ক ভোটারদেরও ভোট দিতে দেখা গেছে। নতুন ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিতে গিয়ে অনেক কেন্দ্রে যান্ত্রিক বিভ্রাটে ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা যায়। ভোট শুরু হওয়ার কথা সকাল ৮টায়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা যায় ওই সময়েই ভোটকক্ষের সব কটিতেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।

নির্বাচন কমিশনাররা রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বসে সিসিটিভির মাধ্যমে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের ওই পর্যবেক্ষণে ভোটগ্রহণের সময় দুজনকে ভোটকক্ষের গোপনকক্ষে অবৈধ প্রবেশ করতে দেখা গেলে তাদের আটক করার নির্দেশ দেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গতকাল বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজীপুর সিটির ভোটে অত্যন্ত সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। আমরা সিসিটিভিতে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছি। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে। সব প্রার্থী, বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভোট পড়ার হার ৫০ শতাংশের কম হবে না।’

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সরেজমিনে গিয়ে ভোট পরিদর্শন করে সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বলেন, কোনো কেন্দ্রে কোনো ভোটার ভোট না দিয়ে ফেরত গেছেন—এমন ঘটনা নেই।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই নির্বাচনে রাজপথের প্রধান বিরোধী দলসহ কয়েকটি দল অংশ না নিলেও ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহের কমতি ছিল না। সব দলের অংশগ্রহণে গাজীপুর সিটির ২০১৩ সালের নির্বাচনের ভোট দেওয়ার হার ছিল ৬৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে একই ধরনের নির্বাচনে এই হার ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। এবারও এর কাছাকাছি ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজমতের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খান সকাল ৯টা ৫ মিনিটে টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ ভোটকেন্দ্র দারুস সালাম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভালো। ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।’

জায়েদা বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে’

নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ভোট দিয়ে জায়েদা খাতুন বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে। ভোটাররা সুন্দরভাবে ভোট দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশে খুশি।’

ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের উপস্থিতি

৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকে সাতটি ভোটকক্ষের সব কটির বাইরে ছিল দীর্ঘ লাইন। নারী ভোটারদের লাইন একটু বেশিই লম্বা দেখা যায়। কেন্দ্রটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার দুই হাজার ৩৫৬ জন। ভোট শুরু হলে ৮২ বছরের স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে নিয়ে নাতির সঙ্গে ভোট দিতে আসেন কানাইয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবীণ ভোটার দিল মোহাম্মদ (৯৩)। ভোট দিয়ে বের হয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে যতবার ভোট দিছি, সিল মারছি। এইবার মেশিনে ভোট হইব শুইন্না আগেভাগেই আসছি।’

দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের গিরিজা কিশোর (জি. কে.) আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। প্রিজাইডিং অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৯২৯। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

প্রিজাইডিং অফিসার আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘অনেকেই ভোট দিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন। আমরা তাঁদের বারবার বলে দিচ্ছি। তবুও ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি অনেকেই বুঝতে পারছেন না।’

নগরীর টঙ্গিতে সফিউদ্দিন সরকারি একাডেমি অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটকক্ষগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্ট দেখা গেলেও কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের দেখা যায়নি। কেন্দ্রের ১, ২, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বুথে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর খান বলেন, কারো এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ নেই। প্রার্থীরা নিজেরাই কিছু কিছু স্থানে এজেন্ট দেয়নি।

নতুন ভোটারদের বিড়ম্বনা

নতুন ভোটারদের অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। হাড়িনাল কেন্দ্রে নতুন ভোটার শামসুন্নাহার, নাদিয়া আখতার ও আফসানা আখতার ভোটার নম্বর না পাওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা তিনজনই নতুন ভোটার। নতুন ভোটারদের এই সমস্যা আরো কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে।

কয়েকটি কেন্দ্রে দুপুরের পর ভোটার কমে যায়

দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০০ নম্বর বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কয়েকটি ভোটকক্ষ ভোটারশূন্য ছিল। কয়েকটিতে ছিল ১০-১২ জনের লাইন। কেন্দ্রের ৩ নম্বর ভোটকক্ষে গিয়ে ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নূরুল ইসলাম নামের এক ভোটার। তাঁর অভিযোগ, মেয়র প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর ইভিএম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে ভোট দিতে পারেননি। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তাঁকে জানিয়েছেন ওই দুই পদে তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির ৩, ২ ও ৫ নম্বর ভোটকক্ষে নৌকা, হাতপাখা ও লাঙ্গল ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জায়েদা খাতুনের এজেন্ট আবদুল মান্নান জানান, সকালে তিনিসহ ছয়জন এজেন্ট কেন্দ্রে যান। ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের সবাইকে বের করে দেন। পরে ওই কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটির সচিব নূরুল ইসলাম ও সদস্য মাহফুজুর রহমানকে আটক করে তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হয়। সকাল ১০টা নাগাদ গাজীপুরের জয়বেদপুরের আজিম উদ্দিন কলেজ, গাজীপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটার কম ছিল। দুপুরের পর মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

ইভিএমে বিড়ম্বনা

ইভিএমে ভোট দিতে এসে অনেকে বিড়ম্বনার শিকার হন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হরিনাল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শফিকুর রহমান নামের এক ভোটার জানান, তিনি আগে কখনো ইভিএমএ ভোট দেননি। তাঁর ভোট দিতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লেগেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার হাসান ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেকের আঙুলের ছাপ মিলতে সময় লাগছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: ভোট জমিয়ে জায়েদার জয়

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুন ২০২৩

 

জাকারিয়া হোসেন হিমেলঃ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে শেষ পর্যন্ত জয় পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা। রাত দেড়টায় রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আজমত উল্লা খানের চেয়ে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এই ফলাফল সার্বিকভাবে ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে।

ভোট মানেই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ, ধাওয়াধাওয়ি, কম ভোটার উপস্থিতি—এই পরিস্থিতির বিপরীত চিত্র দেখা গেছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। গতকাল সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার আগেই কিছু কেন্দ্রে ছিল ভোটারের দীর্ঘ লাইন। কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণে ধীরগতি এবং কয়েকজন প্রার্থীর এজেন্ট না থাকা ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোট চলাকালে সহিংসতা ঘটেনি।

তবে ভোটের পর একটি ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ভোট চলাকালে প্রার্থীরাও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক মেনে নেবেন বলে জানান।

বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে স্থাপিত কার্যালয়ে রাত দেড়টার দিকে নির্বাচনের ৪৮০ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ফরিদুল ইসলাম। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানের চেয়ে ১৬ হাজার ১৯৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।

জায়েদা খাতুন পেয়েছেন দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৪ ভোট আর আজমত উল্লা খান পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ ভোট। ফল ঘোষণার পর নির্বাচিত জায়েদা খাতুনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মাকে সহযোগিতা করবেন। আমার মা এবং সবার সহযোগিতায় একটি নতুন শহর করে দেব এই গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আমার জন্ম হয়েছে।

কোনো সন্ত্রাসী, কোনো অপকর্মের কাছে আমি মাথা নত করিনি, করবও না। সে জন্য আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৫০টির বেশি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদকরা। তাঁরা কোথাও অনিয়ম বা গোলযোগের ঘটনা দেখেননি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রেই ছিল ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। শারীরিক প্রতিবন্ধী, অসুস্থ, অতি বয়স্ক ভোটারদেরও ভোট দিতে দেখা গেছে। নতুন ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিতে গিয়ে অনেক কেন্দ্রে যান্ত্রিক বিভ্রাটে ভোটগ্রহণে ধীরগতি দেখা যায়। ভোট শুরু হওয়ার কথা সকাল ৮টায়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা যায় ওই সময়েই ভোটকক্ষের সব কটিতেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন।

নির্বাচন কমিশনাররা রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বসে সিসিটিভির মাধ্যমে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁদের ওই পর্যবেক্ষণে ভোটগ্রহণের সময় দুজনকে ভোটকক্ষের গোপনকক্ষে অবৈধ প্রবেশ করতে দেখা গেলে তাদের আটক করার নির্দেশ দেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গতকাল বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজীপুর সিটির ভোটে অত্যন্ত সন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন। আমরা সিসিটিভিতে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছি। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে। সব প্রার্থী, বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ভোট পড়ার হার ৫০ শতাংশের কম হবে না।’

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সরেজমিনে গিয়ে ভোট পরিদর্শন করে সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বলেন, কোনো কেন্দ্রে কোনো ভোটার ভোট না দিয়ে ফেরত গেছেন—এমন ঘটনা নেই।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই নির্বাচনে রাজপথের প্রধান বিরোধী দলসহ কয়েকটি দল অংশ না নিলেও ভোট দিতে ভোটারদের উৎসাহের কমতি ছিল না। সব দলের অংশগ্রহণে গাজীপুর সিটির ২০১৩ সালের নির্বাচনের ভোট দেওয়ার হার ছিল ৬৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে একই ধরনের নির্বাচনে এই হার ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। এবারও এর কাছাকাছি ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজমতের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজমত উল্লা খান সকাল ৯টা ৫ মিনিটে টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ ভোটকেন্দ্র দারুস সালাম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ ভালো। ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।’

জায়েদা বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে’

নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ভোট দেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ও তাঁর ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ভোট দিয়ে জায়েদা খাতুন বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে। ভোটাররা সুন্দরভাবে ভোট দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশে খুশি।’

ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের উপস্থিতি

৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকে সাতটি ভোটকক্ষের সব কটির বাইরে ছিল দীর্ঘ লাইন। নারী ভোটারদের লাইন একটু বেশিই লম্বা দেখা যায়। কেন্দ্রটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ভোটার দুই হাজার ৩৫৬ জন। ভোট শুরু হলে ৮২ বছরের স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে নিয়ে নাতির সঙ্গে ভোট দিতে আসেন কানাইয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রবীণ ভোটার দিল মোহাম্মদ (৯৩)। ভোট দিয়ে বের হয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে যতবার ভোট দিছি, সিল মারছি। এইবার মেশিনে ভোট হইব শুইন্না আগেভাগেই আসছি।’

দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের গিরিজা কিশোর (জি. কে.) আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ছিল ভোটারদের দীর্ঘ সারি। প্রিজাইডিং অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৯২৯। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

প্রিজাইডিং অফিসার আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘অনেকেই ভোট দিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন। আমরা তাঁদের বারবার বলে দিচ্ছি। তবুও ইভিএমে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি অনেকেই বুঝতে পারছেন না।’

নগরীর টঙ্গিতে সফিউদ্দিন সরকারি একাডেমি অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটকক্ষগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এজেন্ট দেখা গেলেও কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের দেখা যায়নি। কেন্দ্রের ১, ২, ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বুথে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর খান বলেন, কারো এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ নেই। প্রার্থীরা নিজেরাই কিছু কিছু স্থানে এজেন্ট দেয়নি।

নতুন ভোটারদের বিড়ম্বনা

নতুন ভোটারদের অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। হাড়িনাল কেন্দ্রে নতুন ভোটার শামসুন্নাহার, নাদিয়া আখতার ও আফসানা আখতার ভোটার নম্বর না পাওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। তাঁরা তিনজনই নতুন ভোটার। নতুন ভোটারদের এই সমস্যা আরো কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে।

কয়েকটি কেন্দ্রে দুপুরের পর ভোটার কমে যায়

দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১০০ নম্বর বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কয়েকটি ভোটকক্ষ ভোটারশূন্য ছিল। কয়েকটিতে ছিল ১০-১২ জনের লাইন। কেন্দ্রের ৩ নম্বর ভোটকক্ষে গিয়ে ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নূরুল ইসলাম নামের এক ভোটার। তাঁর অভিযোগ, মেয়র প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর ইভিএম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে ভোট দিতে পারেননি। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তাঁকে জানিয়েছেন ওই দুই পদে তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির ৩, ২ ও ৫ নম্বর ভোটকক্ষে নৌকা, হাতপাখা ও লাঙ্গল ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জায়েদা খাতুনের এজেন্ট আবদুল মান্নান জানান, সকালে তিনিসহ ছয়জন এজেন্ট কেন্দ্রে যান। ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের সবাইকে বের করে দেন। পরে ওই কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটির সচিব নূরুল ইসলাম ও সদস্য মাহফুজুর রহমানকে আটক করে তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হয়। সকাল ১০টা নাগাদ গাজীপুরের জয়বেদপুরের আজিম উদ্দিন কলেজ, গাজীপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটার কম ছিল। দুপুরের পর মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

ইভিএমে বিড়ম্বনা

ইভিএমে ভোট দিতে এসে অনেকে বিড়ম্বনার শিকার হন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হরিনাল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শফিকুর রহমান নামের এক ভোটার জানান, তিনি আগে কখনো ইভিএমএ ভোট দেননি। তাঁর ভোট দিতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লেগেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার হাসান ইমাম কালের কণ্ঠকে বলেন, বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেকের আঙুলের ছাপ মিলতে সময় লাগছে।